একসঙ্গে স্কুলে পড়াশোনা, তারপর হারালেন শেষ সম্বল! এবার মোদির দ্বারস্থ প্রাক্তন সহপাঠী
গুজরাটের ভাদনগরের একটি স্কুলে একসঙ্গে পড়াশোনা করতেন নরেন্দ্র মোদি এবং আসগরআলি ভোহরা। সেই স্কুলজীবনের বন্ধুত্বের বহু বছর পর জমি নিয়ে সমস্যায় পড়ে এবার দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলেন ৮১ বছরের ভোহরা। তাঁর অভিযোগ, মুম্বইয়ের ভায়ান্দর পূর্ব এলাকায় কয়েক দশক আগে কেনা তাঁর জমি দখল হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় দুই নির্মাণ সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।ভোহরার দাবি, ১৯৮৯ সালে তিনি ২৮১০ বর্গমিটার আয়তনের একটি জমি কিনেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন নিজের মালিকানায় থাকার পর ২০১১ সালে ওই জমি বেদখল হয়ে যায়। এই ঘটনার পিছনে স্বয়ম বিল্ডার্স এবং সেভেন ইলেভেন কনস্ট্রাকশনস নামে দুই নির্মাণ সংস্থার যোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।৮১ বছরের বৃদ্ধের আরও দাবি, জমির নথিপত্রে কারচুপি করে ওই জমিকে দুটি অংশে ভাগ করা হয়। পরে সেই জমির মালিকানা নিজেদের নামে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে এবং জমি সংক্রান্ত অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এখনও আদালতে নির্ধারিত হয়নি।এই জমি সংক্রান্ত ঘটনায় স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক নরেন্দ্র মেহতার নামও জড়িয়েছে বলে দাবি ভোহরার। তাঁর অভিযোগ, নরেন্দ্র মেহতার সঙ্গে ওই দুই নির্মাণ সংস্থার যোগসূত্র রয়েছে। তবে এই অভিযোগও বর্তমানে তদন্ত ও বিচারাধীন বিষয়।ভোহরা জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে এই জমি সংক্রান্ত ঘটনায় পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেছিল। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, মামলা হওয়ার পর প্রায় এক দশক কেটে গেলেও সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। জমি ফিরে পাওয়ার আশায় বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও তিনি সুরাহা পাননি বলে দাবি করেছেন।শেষ পর্যন্ত গত ৮ সেপ্টেম্বর বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বারস্থ হন ভোহরা। তিনি গোটা ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এত বছর ধরে চলা জমি সংক্রান্ত সমস্যার নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসতে পারে।একসময় একই স্কুলে পড়া মোদির সঙ্গে দেখা করার পর অবশ্য আশাবাদী ৮১ বছরের ভোহরা। বহু বছরের পুরনো জমি নিয়ে লড়াইয়ে এবার হয়তো কোনও সমাধানের পথ খুলবে, সেই আশাতেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

